আফগান শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে তুরস্ক

ইরান সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে আফগান শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ও আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে তুরস্ক।

সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে অতিরিক্ত প্রতিরোধক নির্মাণ করেছে দেশটি। সীমানা প্রাচীরের নবনির্মিত দেয়ালের প্রতিটি ব্লকের উচ্চতা ৩মিটার, প্রস্থ ২ মিটার এবং ওজন ৭ টন করে।

পূর্বাঞ্চলীয় ভান প্রদেশ থেকে শুরু করে আগরি প্রদেশের দগুবায়জিদ হয়ে তার বিস্তৃতি হাক্কারি প্রদেশের ইয়ুকসেকোভা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। প্রাচীর সহায়ক হিসেবে তার চারপাশে ১১০ কিলোমিটারের পরিখা থাকার পাশাপাশি নজরদারির জন্য রয়েছে ১০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সার্ভেইলেন্স টাওয়ার।

ভান প্রদেশের জালদিরান ডিস্ট্রিক্টের গভর্নর ইউসুফ দুররানী দিঞ্জ বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ, সব ধরণের চোরাচালান, বিশেষত সন্ত্রাসবাদ রোধে নবনির্মিত দেয়াল এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সীমান্তকে সুরক্ষিত করবে।

তার বক্তব্য মতে, এটি তাদের জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তুর্কী গভর্নর দুররানী দিঞ্জ এটাও বলেন যে, সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করার মূল কারণ হলো আফগান শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং অন্যান্য দেশে অস্থিরতার ফলে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশের চাপ আমাদের দেশেও দীর্ঘ সময় ধরে পড়ছে।

যে সকল অবৈধ অভিবাসী আমাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা তাদের প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে প্রেরণ নিশ্চিত করছি।

জানা যায়, গত সপ্তাহে শতশত আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীর ইরান হয়ে তুরস্কে প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

তাদের সকলেরই বক্তব্য ছিলো যে, আফগান সংকট এবং কাবুল সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষের সাথে তালেবানের সংঘাত থেকে বাঁচতে তারা পালিয়ে এসেছে।

অপরদিকে তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৫০০ জন আফগান নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করা হয়েছে।

যেহেতু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তালেবানরা এখন পরিপূর্ণ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে তাই আরো বড় ধরণের আফগান শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের ঢল নামার ইঙ্গিত পেয়েছে তুরস্ক।

তাই সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন করে দেওয়াল, পরিখা খনন ও সার্ভেইলেন্স টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *