আহারে জীবন! ট্রেনের ইঞ্জিনে ছানা দিয়েছে শালিক পাখি, বড় না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ ব্যবহার

জীবন কত সুন্দর। গোটা বিশ্ব যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন হয়ত এই কথাগুলো একটু অতিকথন মনে হতে পারে। কিন্তু ধ্বংসের মধ্যে থেকেই তো মাথা তুলে দাঁড়ায় জীবন।

ভাইরাসের হানা রুখতে অনেকেই এখন বলছেন, প্রকৃতি-পশুপাখির সঙ্গে শত্রুতা নয়, ওদের আপন করে নিতে হবে আবার। ভালোবাসতে হবে। সেই ভালোবাসারই এক টুকরো দৃশ্য যেন দেখা গেল বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে বাসা বেঁধেছে এক জোড়া শালিক। সেখানে সেই সংসারে এখন এসেছে ফুটফুটে দুই সদ্যোজাতও।

এবার তো আবার স্বাভাবিকতায় ফিরতে হবে। তাই চালাতে হবে ট্রেন। কিন্তু শালিকের সংসার না ভেঙে তা কীভাবে সম্ভব? অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে শালিক দম্পতির বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত চালানো হবে না ওই ট্রেনটি।

ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের লোকোশেডে। করোনাভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনের জেরে বন্ধ আছে ট্রেন চলাচল। ফলে রেলের ইঞ্জিনগুলো পড়ে আছে রেলের বিভিন্ন লোকশেডে।

সেভাবেই ৬৫ সিরিজের ০৭ নম্বর ইঞ্জিনিটি রাখা ছিল পার্বতীপুর লোকশেডে। দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ইঞ্জিনের মধ্যে বাসা বাঁধে এক জোড়া শালিক। সেখানে প্রায় দুই মাসের সংসারে ডিম থেকে জন্ম নেয় দুটি ছানাও।

বেশ নিরাপদ আর স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটছিল পাখি দম্পত্তির। বাচ্চারাও বেড়ে উঠছিল মা-বাবার আদর যত্নে। গত ১৪ মে ওই লোকমোটিভকে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়। ইঞ্জিনটিকে চালু করার আগেই কর্মীদের চোখ পড়ে ইঞ্জিনের মধ্যে একটি ফাঁকা জায়গায়।

দেখা যায় সেখানে মা শালিক তার দুটি ছানাকে বুকের মধ্যে আগলে বসে আছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে উড়ে যায় মা শালিক। এ সময় ইঞ্জিন চালু করা হলে পাখির ছানা দুটি মারা যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি জানানো হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।

ঘটনার কথা শুনেই পার্বতীপুর লোকশেডের ইনচার্জ কাফিউল ইসলাম নির্দেশ দেন, ছানাগুলো উড়তে শেখা না পর্যন্ত ওই ইঞ্জিনটিকে ব্যবহার করা হবে না। বাংলাদেশে রেল দফতরের এহেন সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। ছানাগুলো দেখভালও করছেন রেল কর্মীরা। ইঞ্জিনটিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

eisamay

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *