করোনার সময়ে নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে করণীয়

করোনাভাইরাসের মহামারির সময়ে নিউমোনিয়া আরও বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে এ বছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। তাই রোগটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আসছে শীতে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে এই রোগটির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

নিউমোনিয়া কেবলমাত্র একটি অসুখ নয়, নানামুখী শারীরিক জটিলতা থেকে এই রোগ হয়। নিউমোনিয়ার জীবাণু মানুষের ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং টিবির জীবাণুর মাধ্যমে নিউমোনিয়া ছড়ায়।

করোনাকালে নিউমোনিয়া বাড়তি উদ্বেগের কারণ। তাই এই রোগ থেকে বাঁচতে হবে। কিন্তু তার আগে জানতে হবে কোন কোন ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি? Cleveland Clinic-এর মতে বয়সসীমা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দুই বছরের নিচের শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। একই সম্ভাবনা দেখা যায় ৬৫ বছরের উপরেও।

HIV-AIDS বা অটোইমিউন ডিজিজের জেরে যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল এবং যাদের ফুসফুসে সংক্রমণের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

যাদের নিউরোলজিক্যাল ইস্যু যেমন ডিমেনশিয়া বা স্ট্রোকের প্রবণতা রয়েছে, তারাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। যারা মদ্যপান করেন, তাদের তো বটেই এবং অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রেও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

কী ভাবে বাঁচবেন নিউমোনিয়ার হাত থেকে:

Pneumococcal ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট নিউমোনিয়া রোগকে প্রতিরোধ করতে Pneumovax23 ও Prevnar13 নামে দুইটি ভ্যাকসিন রয়েছে। তবে ভাইরাল নিউমোনিয়াকে আটকানোর কোনও ভ্যাকসিন নেই। প্রতি বছর ফ্লু ভ্যাকসিন নিতে পারেন। তা ছাড়া কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে আপনাকে।

১. করোনার মতো ড্রপলেটের মাধ্যমেই ছড়াতে পারে নিউমোনিয়া। তাই বাইরে গেলে সাবধানে থাকুন। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

২. কেউ খুব অসুস্থ থাকলে বা নিউমোনিয়ায় ভুগলে, তার থেকে দূরে থাকুন।

৩. এই রোগ স্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই হাইজিন মেইনটেন করুন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

৪. ধূমপান ছেড়ে দিন। মাথায় রাখবেন বায়ুদূষণ বা নিষ্ক্রিয় ধূমপানও আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। তাই অধিক দূষিত এলাকা বা ঘিঞ্জি এলাকা এড়িয়ে চলা ভাল।

৫. যদি সাধারণ কোনও জ্বর বা ভাইরাল ইনফেকশন হয়, তা হলে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করুন। যাতে এটি নিউমোনিয়ার স্টেজে না যায়, সে কথা মাথায় রাখুন। ৬. ডায়েটে নজর দিন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান। শরীরচর্চা করুন।

এই অভ্যাসগুলি যথাযথ ভাবে বজায় রাখলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। এর জেরে নিউমোনিয়া-সহ একাধিক সংক্রামকের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন আপনি।

সূত্র- নিউজ১৮, বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *