গাড়িতে ‘ইমার্জেন্সি রোগী’ স্টিকার লাগিয়ে ঈদযাত্রা, যা ঘটল

চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকা দিয়ে একটি মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন। ‘ইমার্জেন্সি রোগী’ স্টিকার লাগানো দেখে ব্যস্ত পুলিশ সদস্যরা গাড়িটি ছেড়ে দেয়। ঘুণাক্ষরেও তারা টের পাননি গাড়িতে কারা আছেন। তবে বিষয়টি খেয়াল করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।

আজ শনিবার বিকেল ৫টায় শাহ আমানত সেতু এলাকায় নিজ দল নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।

পুলিশের চেকপোস্ট পেরিয়ে ইমার্জেন্সি রোগী স্টিকার লাগানো গাড়িটি সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেটির সামনে চলে যান তিনি। পরে ওই গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন কয়েকজনকে, যারা আসলে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়িতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লোকগুলো শাহ আমানত সেতু এলাকা দিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। ইমার্জেন্সি রোগী স্টিকার লাগানো থাকায় আমার সন্দেহ হয়। পরে সেটি তল্লাশি করতে গিয়ে দেখতে পাই, মাইক্রোবাসের ভেতর সবাই কক্সবাজারগামী যাত্রী।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী ব্রিজের ওপর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছিল।

একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসটি ট্রাফিক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে সামনের দিকে চলে আসে। পরে মাইক্রোবাসচালক এবং যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিনটি পরিবার নিয়ে তারা কক্সবাজার অভিমুখে চট্টগ্রাম ছাড়ার চেষ্টা করছিল বলে জানা যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি এক ধরনের প্রতারণা। গাড়িটির চালকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই তিন পরিবারের সবাইকে চট্টগ্রাম শহরে তাদের নিজ বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

কর্ণফুলী ব্রিজের ওপর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ বান্দরবান এবং কক্সবাজার অভিমুখী ১৫টি মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করা হয়। মোটরবাইকের যাত্রী এবং চালকদের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তৌহিদুল ইসলাম।

dainikamadershomoy

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *