ঢাকায় ১২ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া মওকুফ করলেন ইতালি প্রবাসী

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে লডকাউনে বিপাকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকের রোজগারও বন্ধ। বহু মানুষ বাড়ি ভাড়া মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন সময়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত রাখলেন মনোয়ার হোসেন ক্লার্ক নামে এক ইতালি প্রবাসী।

জানা যায়, রাজধানীর পূর্বধানমন্ডিতে ও বনশ্রীতে বাড়ি রয়েছে ইতালি প্রবাসী মনোয়ার হোসেনের। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়ি দু’টিতে ভাড়া থাকা পরিবারগুলো সমস্যায় রয়েছে।

ভাড়াটিয়াদের এই সমস্যায় উদারতার পরিচয় দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মনোয়ার। ভাড়াটিয়াদের সমস্যা অনুযায়ী তাদের প্রায় সবারই বিভিন্ন মেয়াদে বাড়ি ভাড়া মওকুফ করেছেন। তাতে মোট ১২ লাখ টাকা মওকুফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুল ইসলাম।

তিনি জানান, মনোয়ার হোসেন বর্তমানে ইতালিতে বসবাস করছেন। সেখানে ব্যবসা করেন। ইতালিতে করোনার ভয়াবহতা দেখে তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন। মানুষের কষ্ট হচ্ছে জেনে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

মনোয়ার ক্লার্কের বাড়িতে ভাড়া থাকা একজন হলেন ব্যবসায়ী জাকির হোসেন। সময় নিউজকে তিনি বলেন, আমাদের বাড়িওয়ালা বিদেশে থাকেন। উনি খুব ভালো লোক। করোনার মধ্যে উনি আমাদের সুবিধা দিয়েছেন। না হলে আমাদের কষ্ট হয়ে যেত।

আরেক ভাড়াটিয়া বেসরকারি চাকরিজীবী ইশতিয়াক আহমেদ ইশা বলেন, আমাদের তো এখন কোনো আয় নাই। বেতন নাই। জমানো টাকা ভেঙে ভেঙে খাচ্ছি। এমন বিপদের সময়ে উনি যে ছাড় দিয়েছেন এতে অনেক বড় উপকার হয়েছে। ওনার মতো ঢাকার অন্যান্য ধনী বাড়িওয়ালাদেরও বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।

এ বিষয়ে মনোয়ার ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় নিউজকে বলেন, বিদেশে পরিশ্রম করে উপার্জন করি দেশের জন্য।

কিন্তু দেশের মানুষ যদি কষ্টে থাকে, বিশেষ করে যারা আমার (প্রতিবেশী) বাড়িতে থাকে। তারা যদি কষ্টে থাকে তাহলে উপার্জনের অর্থ থাকল কী? যদিও ইতালিতে আমরা সমস্যায় আছি ও ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু যেহেতু সুযোগ আছে আমার বাংলাদেশে কিছুটা উপকার করার। যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি।

মনোয়ার ক্লার্কের জন্ম ঢাকাতে। তার আদি বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার মাচিমপুর গ্রাম। তিনি ইতালিতে ইটাল বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

somoynews

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *