বুক জলে দাঁড়িয়ে খাবার নিচ্ছে একরত্তি! উম্পুনের বীভৎসতায় ওই যেন ‘বাংলার মুখ’

বাংলার একটা বড় অংশকে তছনছ করে দিয়েছে উম্পুন। চারিদিকে ধ্বংসের চিহ্ন। গৃহহীন-খাবারহীন মানুষের হাহাকার চারিদিকে। শুধু প্রশাসন নয়, কাজে নেমে পড়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, একটি ছোট্ট ছেলে খালি গায়ে বুক সমান জলে দাঁড়িয়ে ত্রাণের খাবার নিচ্ছে।

চোখে-মুখে আতঙ্ক আর অসহায়তা স্পষ্ট। ছবিটি দেখে অনেকেরই চোখ ভিজে গিয়েছে। তাঁর পরিচয় বা এলাকা এখনও জানা না গেলেও সকলেই একবাক্যে বলছেন, গাছ-পাল-বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়া নয়, উম্পুনের বীভৎসতায় এই ছোট্ট ছেলেটাই বাংলার মুখ।

করোনার জেরে লকডাউনে ভেঙে পড়া অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছিল রাজ্যে। কিন্তু উম্পুনের ছোবলে শেষ হয়ে গেছে দক্ষিণবঙ্গের শস্যগোলা।

ঘূর্ণিঝড় সরে যাওয়ার পর ধ্বংসের ছবিটা আরও স্পষ্ট হতেই লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্টের খবর সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ধান, সব্জি থেকে তিল, পাট-সহ ফুলচাষেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। করোনা আতঙ্কেও চাষিরা খেতের সব্জি তুলে বিক্রি করতে পারছিলেন।

কিন্তু উম্পুনের পর বনগাঁ, বাগদা থেকে দেগঙ্গায় সব্জি, ধান, ফল ও ফুলের গাছ মাটিতে মিশে গেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় এক লক্ষ ৩৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত।

উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৪০৯৫ স্কোয়ার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উম্পুন তাণ্ডব চলেছে। জেলার ২২টি ব্লক, ২৫টি পুরসভা এবং একটি কর্পোরেশন এলাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের হিসেবে শুধু এই জেলাতেই ৪০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। সাড়ে চার লক্ষ বাড়ি নষ্ট হয়েছে।

জেলার ১৫৯৭টি ত্রাণ শিবিরে আড়াই লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বনগাঁ মহকুমায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের। ধান, সব্জি, তিল, আম, কলা, পেঁপে চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাচার সব্জি মাটিতে মিশে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু ক্ষতির বহর দেখে সকলে স্তম্ভিত। কারও বাড়ি ভেঙে পড়েছে, কারও বাড়ির চাল উড়েছে, কারও বাড়ি ভেসে গেছে জলে। ফলে সাধের বাড়ি ছেড়ে ওঁদের ফিরতে হয়েছে ত্রাণ শিবিরেই, ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে।

উম্পুন চলে গেলেও সংকট সবে শুরু হয়েছে। চারিদিকে যাতে ঠিকভাবে ত্রাণ বণ্টন হয়, তা নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ত্রাণ বণ্টনে কোনও ‘অভিযোগ যাতে না আসে’ তা নিয়ে সতর্ক করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘এক পয়সাও যদি এদিক ওদিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে আমি DM-কে ধরব৷ আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, আমি ছেড়ে কথা বলব না। কড়া অ্যাকশন নেব।’

eisamay

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *