হাসপাতালে কাঁদছেন চীনের চিকিৎসকরাও

চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই ভাইরাসে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০৬ জন। এছাড়াও নতুন করে আরো এক হাজার ৩০০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এতে করে চীনে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ১৯৩ জন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানের খবরে বলা হয়, এমন অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে টানা কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একটু বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও পাচ্ছেন না অনেক চিকিৎসক।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টানা কাজের চাপ আর ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেক চিকিৎসক। অনেকেই চিৎকার করছেন এবং কাঁদছেন। ওই ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

উহানে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশ্রাম ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে শহরের হাসপাতালগুলো লোকজনে পরিপূর্ণ। কোথাও পা ফেলারও জায়গা নেই। সব হাসপাতালেই রোগীর ভিড় লেগে আছে।

রোগীদের শরীর থেকে যেন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পুরো শরীর ঢাকা পোশাক এবং মাস্ক পরে চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এক চীনা চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা জানি যে আমাদের এই সুরক্ষিত পোশাকটিই হয়েতো আমাদের কাছে সর্বশেষ। আমরা কোনো কিছুই নষ্ট করতে চাচ্ছি না।’

মূলত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রেও লোকজন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে-‘২০১৯ নোভেল করোনাভাইরাস’। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চীনে সফর করেছেন এমন লোকজনের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সে কারণে অনেক দেশই এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন সফরে নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

dailymorning24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *