হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়: বাবুনগরী

হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, সব মসজিদের মুসল্লিরা হেফাজতের সদস্য, সব মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা হেফাজতের সদস্য। সব স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ হেফাজতের সদস্য। নামাজ, রোজা, হজ-জাকাত হল হেফাজতের কর্মসূচি। হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়।

শনিবার বিকালে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এ দেশ চলবে মদিনার সনদে। প্রধানমন্ত্রী দেশ মদিনার সনদে চালানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কি তা হচ্ছে। দেশ কি মদিনার সনদে চলছে?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এ দেশ মদিনা সনদে চলবে; অন্য কোনো সনদে চলবে না। তাই মদিনা সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ শক্তভাবে দমন করতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আল্লাহর রাসূলের (সা.) শান-মান রক্ষায় মুসলিম জাতি রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, সংসদে অবিলম্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে। যতদিন পর্যন্ত নিন্দা প্রস্তাব ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে না- ততদিন পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাব।

সমাবেশ রেজিস্ট্রারি মাঠে হলেও পূর্বদিকে বন্দরবাজার, পশ্চিমদিকে কাজীরবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের পদভারে মুখরিত ছিল।

সমাবেশে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দাপ্রস্তাব পাস, পণ্য বর্জন, সিলেটে হোটেলগুলোতে মদের অনুমোদন বাতিল, মাদকের অবাধ ছড়াছড়ি বন্ধ ও রায়হান হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়।

সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিলেট মহানগর পুলিশ। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের বিপুল সংখ্যক সদস্য সমাবেশস্থল ও আশপাশে কাজ করেছেন।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর। ‘গাছবাড়ি হুজুর’ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং সিলেট জেলা শাখার সভাপতি।

সমাবেশের আগের রাতে শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর বলেন, আমি বিগত ৯ নভেম্বর এদারা ভবনে ২১ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের ব্যানারে ফ্রান্সে মহানবীর (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি এ সমাবেশে বর্তমানে হেফাজতের নাম ব্যবহার ছাড়া আর কিছু নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাকে না জানিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাই আমি শনিবারের সমাবেশে অংশগ্রহণ করব না। শনিবারের সমাবেশে অংশ না নিলেও তিনি হেফাজতের সঙ্গে থেকে হেফাজতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

jugantor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *