৩৬ বছর চাকুরি করেও পদোন্নতি মেলেনি দেড় হাজার বনপ্রহরীর।

বন বিভাগে টানা দীর্ঘ তিন যুগ ধরে চাকুরি করার পরও পদোন্নতি মিলেনি দেড় হাজার ফরেস্ট গার্ড কিংবা বনপ্রহরীর।

“জ্যৈষ্ঠতা আর নিয়মিতকরনে”র গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হয়েছেন এ দেড় হাজার কর্মী। যথাসময়ে নিয়মিতকরণ না করায় এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

দফায় দফায় আবেদন নিবেদন করেও প্রতিকার মিলেনি। একই পদে তাদের অনেক পরে যোগদান করেও নিয়মিতকরণের ফলে জ্যৈষ্ঠতা নির্ধারণ হয়েছে অনেকের।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে সাল ও তার পরবর্তী সময়ে যোগদান করেও তারা সিনিয়র হয়ে গেছেন।

এমনকি ২০০৬ ও ২০১৭ সালে যোগদানকারিদের থেকেও পিছিয়ে পড়েছেন তারা।

তাদের নিয়মিতকরণে বন বিভাগের প্রধান অফিস থেকে দেয়া আদেশও কার্যকর করেনি জেলা ও বিভাগীয় অফিসগুলো।

দীর্ঘ বছরেও পদোন্নতি না পেয়ে হতাশা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। অনেকেই ক্ষোভে স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার কথাও ভাবছেন।

বাংলাদেশ বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ আট বছরে অন্তত দুই হাজার ফরেস্ট গার্ড নিয়োগ করা হয়। এদের মধ্যে ৫০০ জনের নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি পেলেও বাকি ১৫০০ কর্মী এখনো বঞ্চিত রয়ে গেছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের বিধি অনুযায়ী নিয়মিতকরণ না হলে পদোন্নতি দেয়া যায় না। এ বিভাবের বিধিমালা অনুযায়ী যোগদানের দুই বছর পরেই নিয়মিতকরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া ১৫০০ ফরেস্ট গার্ডকে নিয়মিতকরণে সেই বিধান মানা হয়নি।

বিধি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকেই জ্যৈষ্ঠতা নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ১৫০০ ফরেস্ট গার্ডকে যোগদানের তারিখ থেকে অদৃশ্যকারণে জ্যৈষ্ঠতা নির্ধারণও করা হয়নি। এ কারণে তাদের নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতিতে জটিলতা দেখা দেয়।

কর্মরত ফরেস্ট গার্ডের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর চাকুরি করার পরও অনেক কর্মচারি চাকুরির শেষ পর্যায়ে এসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ায় ফরেস্ট গার্ডদের কষ্ট আরো বেড়েছে।

পদোন্নতির বিষয়ে ২০১০ ও ২০১৬ সালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর পর দুটি পত্র জারি করা হলেও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় তা কার্যকর হয়নি। এটাই অসন্তোষের মূল কারণ বলে মনে করেন বন প্রহরীরা। অথচ অতীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ এবং ২০১৬ সালে তৎকালীন সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক মো. রকিবুল হাসান মুকুল ফরেস্ট গার্ড থেকে ‘ফরেস্টার’ পদে পদোন্নতির জন্য চাবুরি বহি ও হালনাগাদ তথ্যাদি প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেন’।

চিঠিতে ‘কোনো কর্মচারীর চাকুরি স্থায়ী ও নিয়মিত করা না হয়ে থাকলে চাকুরি স্থায়ী ও নিয়মিত করে চাকুরি বহিতে এন্ট্রি প্রদানপূর্বক হালনাগাদ চাকুরি বহি প্রেরণ করতে’ ওই বছরের ২০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তিনি। কিন্তু সে নির্দেশনা বিভাগীয় কর্মকর্তারা কার্যকর করেননি।

প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধরী (সিসিএফ) জানান, বন বিভাগে সকল কার্যক্রম বিধিবিধান মেনেই করতে হয়। বিধিমালার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। নিয়ম মেনে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেয়া হয়। এরি মধ্যে খসড়া তালিকা করা হয়েছে। এতে কেউ সংক্ষুদ্ধ হলে আপিল করতে পারে। তিনি বলেন,ফরেস্ট গার্ডরাও আমাদের অংশ। তাদের বঞ্চিত করার কোন ইচ্ছা ও সুযোগ নেই। বিধিমালা মেনেই কাজ করা হবে। কেউ বঞ্চিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *