যারা শ্রমিকের পবিত্র ঘাম শোষণ করতে চায় তাদের আমাদের দেশ ঠাঁই না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান শ্রমিকদের লাইনে দাঁড়িয়ে ইফতারে অংশ নিয়েছেন। ইস্তাম্বুলের তুজলায় একটি কারখানায় নিজ হাতে খাবারের ট্রে নিয়ে তাদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন তিনি।

পরে প্রেসিডেন্ট এক প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেন। এ সময় ১লা মে ‘শ্রম ও সংহতি’ দিবসের কথা স্মরণ করিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘আমার প্রধানমন্ত্রীর আমলে দিবসটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এটি আমাদের কর্মজীবী ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাদের সংহতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা এই সুন্দর দিনটিকে অর্থহীন করার অপচেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, এটি কেবল তুরস্কেই নয়, প্যারিসেও হচ্ছে। এ দিনে তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, যারা শ্রমিকের সেই পবিত্র ঘাম শোষণ করতে চায় তাদেরকে আমাদের দেশ ঠাঁই দেবে না। যারা শান্তির প্রতিনিধিত্ব হওয়া একটি দিনটিকে অস্থিরতায় পরিণত করার চেষ্টা করছে তাদেরকে আমরা কোনোভাবেই সুযোগ দেব না।

এরদোয়ান বলেন, আমরা এ দিনকে শ্রমজীবীদের ছুটির দিন হিসেবে উদযাপন করতে চাই। মহান আল্লাহর শুকরিয়া, আমি যে সর্বশেষ তথ্য পেয়েছি সে অনুসারে তুরস্কে আজ পর্যন্ত কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় তিনি শ্রমিকদের শুভেচ্ছা জানান। এরদোয়ানে সঙ্গে শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষামন্ত্রী বেদাত বিলগিন এবং শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা বারানক উপস্থিত ছিলেন।.

রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান শ্রমিকদের সঙ্গে ইফতারের পর কারখানার উৎপাদন বিভাগ পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উৎপাদন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে স্মৃতি হিসেবে ছবি তোলার সময় কয়েকটি পণ্যতে স্বাক্ষরও করেন।

ইফতারের পরে সাধারণ এক বৃদ্ধ মহিলার বাড়িতে পরিদর্শনে যান, ইফতারের পরে সুলতানবেলে বসবাসকারী মাহরুজে কালেস নামক এক বৃদ্ধার বাড়ি পরিদর্শনে যান। সেখানে নাগরিকরা প্রেসিডেন্টের প্রতি আন্তরিকতা, স্নেহ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা সময় কাটান তাদের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনের সময় ওই নারীকে প্রেসিডেন্ট ফোন করে বলেছিলেন তিনি তার সঙ্গে দেখা করবেন। এরদোয়ানের নির্বাচনী প্রচারণায় ওই নারী সাহসীকতার পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।

পরিদর্শন শেষে কিছুক্ষণ রাস্তায় হেঁটে এরদোয়ান নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে রমজানের অভিনন্দন জানান। করোনার কারণে ইফতারের বড় আয়োজন না হওয়ায় ছোট পরিসরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *