ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানালো তুরষ্ক,কাতার ,মিশর, সৌদি

আল আকসায় নামাজরত ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব ও মিশরের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশের সরকার।

মঙ্গলবার (১১ মে) ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৃশংস হামলার বিষয়ে তুরস্ক-কাতার ও মিশর-সৌদির মাঝে ফোনালাপ হয়।

ফোনালাপের পর তারা সকলেই ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের নিন্দা পূর্বক তেল আবিবকে আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সম্মান করার আহবান জানান বলে জানা যায়।

ফোনালাপকালে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এবং কাতারী আমির শেখ তামিম বিন হাম্মাদ আল থানীর মাঝে আলোচনা হয় বলে জানা যায়।

তবে তাদের আলোচনার মূল অংশজুড়ে ছিলো দখলকৃত ফিলিস্তিনে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া পবিত্র আল আকসায় নামাজরত ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা ও গাজা উপত্যকায় গত কয়েকদিনের নৃশংস বিমান হামলার ঘটনা, যাতে ৯ শিশুসহ মোট ২০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ফোনালাপ পরবর্তী নিন্দা জ্ঞাপনকালে তুর্কী প্রেসিডেন্ট ও কাতারী আমিরের বক্তব্য ছিলো, তেলে আবিবকে অবিলম্বে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।

মিশর ও সৌদি আরবের ফোনালাপটি ছিলো পররাষ্ট্র পর্যায়ের।

সৌদিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে মিশরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামিহ শুকরীর ফোনকল পরবর্তী সৌদি আরব ও মিশর এই মুসলিম দেশ দুটি ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করে।

ফিলিস্তিনের অধিকার হরণকারী ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সৌদি ও মিশর ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে উল্লেখ পূর্বক দেশ দুটো, বৈধ ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের যে দায়দায়িত্ব রয়েছে তা পালনের জন্য তাদের জোর দেয়।

মিশর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমদ হাফিজের বক্তব্য অনুসারে, দু’দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ের বৈঠকে পবিত্র ও বরকতময় আকসা প্রাঙ্গণে নামাজরত ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলা ও অতিদ্রুত ফিলিস্তিনের প্রেক্ষাপট পাল্টে যাওয়ার বিষয়ে ফোনে আলাপ-আলোচনা হয়।

জানা যায়, দখলকৃত ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুসালেমে ঐতিহাসিক শেখ জাররাহ অঞ্চলের নির্যাতিত ফিলিস্তিনিরা গতকাল প্রথমবারের মতো হামলা, উচ্ছেদ ও হয়রানির ভয় ব্যতীত স্বস্তিতে দিন পার করেছে।

শেখ জাররাহতে বিগত কয়েক সপ্তাহের উগ্র ইহুদি নাগরিক ও পুলিশের হামলা, উচ্ছেদ ও উসকানির অবসান ঘটায় গতকালের দিনটিকে চলতি মাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করছে তারা।

তাছাড়া, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্র ইহুদিবাদীরা যারা ইসরাইলী পুলিশের সহায়তায় এতদিন জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি দখল করে নিচ্ছিলো তা যে ফিলিস্তিনি মুসলিম নির্মুল করে ইহুদিদের উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে পবিত্র কুদসকে জাতিগতভাবে পরিবর্তনের কৌশল ছিলো তা স্বীকার করে নিয়েছে দখলকৃত জেরুসালেম অংশের ইসরাইলী মেয়র।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৃশংসতার শিকার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা গতকাল প্রথমবারের মতো রকেটে হামলার মাধ্যমে ইসরাইলকে পাল্টা জবাব দেয়।

তবে, বিনা কারণে হুট করে রকেট হামলা না করে উত্তম আদর্শ প্রদর্শনের মাধ্যমে হামলার অনেক আগ থেকেই ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি তাদের নৃশংসতা বন্ধ না করে তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে আসছিলো ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

বারবার বলার পরেও সাম্প্রতিক ফিলিস্তিন নির্মূল ষড়যন্ত্র, ফিলিস্তিনিদের পৈতৃক ঘরবাড়ি দখল, ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলী ও প্রশাসনের দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা এবং ঐতিহাসিক পবিত্র আল আকসায় জঘন্য কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না হওয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির এন্টি মিসাইল সিস্টেম ‘আইরন ডোম’ বিশিষ্ট ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১৩০টিরও বেশি রকেট ছুড়ে তারা।

এতকিছুর পরেও অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনকারী সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্র ইসরাইল দখলকৃত গাজা উপত্যকায় তাদের পরিচালিত সাম্প্রতিক বিমান হামলার চেয়ে আরো বড় পরিসরে হামলা করতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেয়!

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *